চোখ একটি স্পর্শকাতর সংবেদনশীল অঙ্গ, যার সাহায্যে আমরা এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পাই, তার রূপ উপভোগ করি। তাই চোখের সমস্যা একটি বড় সমস্যা। আল্লাহ মানুষকে চোখ দিয়েছে দেখার জন্য। দুই নম্বর হলো সৌন্দর্যের জন্য। চোখ না থাকলে সৌন্দর্য কমে যাবে। দুটোর জায়গায় যদি তিনটি দিত, তাহলেও সৌন্দর্য ভিন্ন রকম হতো।
চোখের মারাত্মক যে সমস্যা
প্রথমেই আমরা জানবো চোখের কি কি সমস্যা হয়ে থাকে। সাধারণত চোখের যে সমস্যাগুলো আমরা দেখতে পাই শেগুলো হল-
- চোখের ছানিপড়া সমস্যা
- দৃষ্টি শক্তি সমস্যা
- নেত্রনালী প্রদাহ সমস্যা
- কর্ণিয়ার আলসার বা চোখের ঘা সমস্যা
- গ্লুকোমা সমস্যা
- ইউভিয়াইটিস সমস্যা
চোখের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান
চোখের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি।এখন আমরা জানবো সেই সব সমস্যার সমাধান সম্পর্কে।উপরে উল্লেক্ষিত সমস্যা গুলোর প্রাথমিক কিছু সমাধা নিম্নে আলোচনা করা হল-
চোখের ছানিপড়া সমস্যা
চোখে ছানি পড়া সমস্যাটা মূলত কি?এটা হল চোখের কর্ণিয়া ও আইরিসের পিছনে অবস্থিত স্বচ্ছ লেন্স বার্ধক্য জনিত কারণে এবং অন্যান্য কারণে অস্বচ্ছ হয়। এই স্বচ্ছ লেন্স অস্বচ্ছ হওয়াকেই ছানিপাড়া রোগ বলে।
যে সমস্ত কারণে চোখে ছানি পড়ে তা হলো–
- বয়স জনিত কারণে
- আঘাত জতি কারণে
- ডায়াবেটিস রোগের কারণে
- ইউভিআইটিস রোগের কারণে
- অনিয়ন্ত্রিত ষ্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে
ছানি রোগের লক্ষণগুলো কি হতে পারে?
ধীরে ধীরে দৃষ্টি ক্ষমতা লোপ পাওয়া, চশমার পাওয়ার পরিবর্তন হওয়া , আলোর চাদিকে রংধনু দেখা, একটি জিনিসকে দুই বা ততোধিক দেখা, দৃষ্টি সীমানায় কালোদ দাগ দেখা, আলোতে চোখ জাপসা হয়ে আসা ইত্যাদি।
সমাধান বা চিকিৎসা
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এই রোগে ত্বরিত চিকিৎসা প্রয়োজন।প্রয়োজনে মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এ রোগের ফলে ছানি রোগ, চোখের উচ্চচাপ রোগ (গ্লুকোমা), রেটিনার রোগ ইত্যাদি কারণে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হোমাট্রপিন অথবা এট্রোপিন আইড্রপ যা দু-তিন বার ব্যবহার করে ব্যথা এবং প্রদাহ দু’টিই কমে। রোগের উপসর্গ এবং উপস্থাপনভেদে স্টেরয়েড এবং এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।এট্রোপিন আইড্রপ ব্যবহারের ফলে রোগী সাময়িক ঝাপসা দেখলেও পরবর্তীকালে ঔষধ বন্ধ করলে আবার ঠিক হয়ে যায়।
অবশ্যই শরীরের অন্যান্য রোগের (যার সঙ্গে ইফভিয়াইটিস রোগের সম্পর্ক রয়েছে) চিকিৎসা করাতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিরেকে কোনো ঔষধ দেয়া বা বন্ধ করা যাবেনা এতে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।মনে রাখতে হবে, ত্বরিত চিকিৎসায় এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়।
সংগৃত: অল হেলথ টিপস বিডি